করোনাকাল
বিচ্ছিন্ন অনুভব
মাহফুজা হিলালী

প্রবন্ধ
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
শামসুজ্জামান খান

গল্প
ডায়মন্ড লেডি ও পাথর মানব
হামিদ কায়সার

গদ্য
নিদ্রা হরণ করেছিল যে বই
মিনার মনসুর

নিবন্ধ
পঞ্চকবির আসর
সায়কা শর্মিন

বিশ্বসাহিত্য
আইজাক আসিমভের সায়েন্স ফিকশন
অনুবাদ: সোহরাব সুমন

বিশেষ রচনা
প্রথম মহাকাব্যনায়ক গিলগামেশ
কামাল রাহমান

শ্রদ্ধাঞ্জলি
মুজিব জন্মশতবর্ষ
মারুফ রায়হান
 
সাক্ষাৎকার
কথাশিল্পী শওকত আলী

জীবনকথা
রাকীব হাসান

ভ্রমণ
ইম্ফলের দিনরাত্রি
হামিদ কায়সার

ইশতিয়াক আলম
শার্লক হোমস মিউজিয়াম

নিউইর্কের দিনলিপি
আহমাদ মাযহার

শিল্পকলা
রঙের সংগীত, মোমোর মাতিস
ইফতেখারুল ইসলাম

বইমেলার কড়চা
কামরুল হাসান

নাজিম হিকমাতের কবিতা
ভাবানুবাদ: খন্দকার ওমর আনোয়ার

উপন্যাস
আলথুসার
মাসরুর আরেফিন

এবং
কবিতা: করেনাদিনের চরণ

১৬ বর্ষ ০৯ সংখ্যা
এপ্রিল ২০২৪

লেখক-সংবাদ :





লেখকের অন্তর্দৃষ্টি
মাইকেল উড, অনুবাদ : আফসানা বেগম
যথাসময়ে পাত্রিক মোদিয়ানোর কল্পকাহিনির উপরে আলোকপাত করা হয়েছে, যেমনটা তিনি নিজেও বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর সবচেয়ে জোরালো যে জিনিসের উপস্থিতি বরাবর আছে তার লেখায়, তা হলো... সময়।” খুবই অদ্ভুত এবং লক্ষনীয় বিষয় হলো তিনি বলেছেন, ‘আমার সবসময় পেছনে ফিরে তাকানোর বাতিক আছে, আমার কেবলই মনে হয় কিছু যেন হারিয়ে গেল, তাই বলে প্যারাডাইস হারানোর কথা বলছি না, কিন্তু কিছু একটা তো হারায়ই।’ তবে বাস্তবিকভাবে, সময় তার লেখায় এসেছে ঠিকই কিন্তু নির্মাণের বিষয়টি অবশ্যই উল্লেখ্য। ‘আমার বয়স তখন আঠারো’; ‘আট বছর আগের কথা’; ‘সেই সন্ধ্যায় প্রথম আমাদের দেখা হলো’; ‘মনে হচ্ছিল না যে আমাদের আঠারো বছর আগে দেখা হয়েছে’; ‘ফ্র্যান্সিস জেনসনের সাথে যখন দেখা হলো তখন আমার বয়স উনিশ’। এই বাক্যগুলো তার ইদানিং কালের পাঁচটি উপন্যাসের প্রথম পাতা থেকে কিছু না ভেবেই বেছে নেয়া, আর এটাই তার কাহিনি শুরুর বৈশিষ্ট্য। মোদিয়ানো সময়ের সাথে সম্পর্ক রেখে কাহিনি বলতে থাকেন, ঘটনা শুরু হয় অতীতের কোনো এক সময়ের হাত ধরে: আঠারো বছর আগে, তার বছর দশেক পরে, তার ছয় বছর আগের কথা, এভাবে। মনে হয় তিনি কেবল লেখার মধ্যে অতীতকে নিয়ে ঘাঁটছেন, কিন্তু তারপরেও বর্তমানের বছরটিকে তিনি কিছুতেই ভোলেন না, সেটারও উল্লেখ থাকে। অতীত ফিরে পাবার চেষ্টায় নয়, অতীতকে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করতে গিয়ে তাকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা, যে সময়টা চলে গেছে তাকে স্মরণ করা আর বিস্তারিতভাবে এক সময়কে অন্য সময়ের থেকে পৃথক করাই যেন তার কাজ।
যে কোনো বড় ঔপন্যাসিকের মতো করেই মোদিয়ানো বলেন, তিনি যেন ক্রমাগত একই বই লিখে চলেছেন। মোদিয়ানো হয়ত ঠিকই বলেছেন, পেছনে ঘুরে তাকানোর অভ্যাস প্রতিটিতেই আছে। তার লেখায় চরিত্ররা অতীত থেকে কিছু ঘটনা, ছবি, পুলিশ ফাইল, পত্রিকার কাটিং, এসব সংগ্রহ করে। হারিয়ে যাওয়া মানুষদের তারা অনুসরণ করে, তাদের গতিবিধি অনেকটা প্রাইভেট ডিটেকটিভের মতো যারা হাতে কাজ না থাকলে উদাস ভঙ্গিতে এদিক-ওদিক চষে বেড়ায়। আমার ধারণা তারা মোদিয়ানোর চোখে প্যারিসের রাস্তায় ঘোরা ভবঘুরে, বিশেষ করে শহরের বাইরের দিকের রাস্তায়। সেই চরিত্রেরা নিজের ইচ্ছেমতো পুরোনো ঠিকানা লেখে, পুরোনো টেলিফোন ডিরেকটরি ঘাঁটে, তারা ফোন করে বসে এমন নম্বরে যা এখন আর ব্যবহৃত হয় না। সেখানে গল্প বলতে থাকা মানুষটি অনেক সময় মোদিয়ানো নিজেই অথবা তারই বয়সী কোনো মানুষ, তারই মতো একটি পরিবার থাকে তার, তারই মতো স্কুলের পড়ালেখা শেষ না করা একজন আর এমনকী কোনো সময়ে তার পেশারই মানুষ যেমন ডোরা ব্রুডার উপন্যাসে। কিন্তু এত কিছুর পরেও মোদিয়ানোর প্রকৃত পরিচয় কিন্তু খোলাসা হয়নি। লেখায় যে অতীত এসেছে তা যেন কেবল লেখকের আরেকটি চরিত্র, আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে তিনি এবং আমরা সবাই অতীতের বাহক, কিন্তু তাই বলে এটা কোনোরকম ভুল স্বীকার বা পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে গড়গড় করে বলে যাওয়া নয়। ভয়াজ দি নোসেস উপন্যাসে মোদিয়ানোর নিজেরই বিভিন্ন স্মৃতি এসেছে ঘুরেফিরে, তবে সেখানে চরিত্রটি সিনেমা বানায় আর সেই পেশা থেকে সরেও আসতে চায়। আরেক উপন্যাস সিয়েন দে প্রিন্তেমসে প্রধান চরিত্রটি একজন লেখক, ১৯৬৭ যালে যার প্রথম উপন্যাস ছাপা হয়। উপন্যাসের নাম সেখানে উল্লেখ করা হয় না, অথবা কী নিয়ে লিখছে, তা-ও না, কেবল ১৯৯২ সালে বসে সে লিখে চলেছে এটুকুই জানা যায়।

মোদিয়ানোর লেখায় তাই পুনরাবৃত্তি আছে, সময়ের ব্যাপারে, কিন্তু তাতে যে সব উপন্যাসই পড়ে, তা নয়। অন্তত আমি যে কয়টি পড়েছি, এখনকার লেখা এক নজরে বা গভীরভাবে দেখলেও প্রতিটি আলাদা। একজন মানুষ যেখানে বরাবর থাকে, জানে সে কোথায় আছে, কারণ আশেপাশের জগতটা একই আর মানুষগুলোকেও একই মনে হয়। এটা একটা ভুল ধারণা, জীবনের ক্ষতি বা আঘাতগুলোর কথা ভাবলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। যেসব আঘাতের সম্মুখীন আমরা হই তার প্রতিটি আমাদের ভিন্ন মাত্রায় ভোগায়। সিয়েন দে প্রিন্তেমস বইয়ে ফ্র্যান্সিস জেনসেনের কাহিনিতে বলা হয়েছে বেলজিয়ামের একজন আলোকচিত্রীর কথা, রবার্ট কাপা’র বন্ধু যে ম্যাগনাম এজেন্সির জন্য কাজ করে। জেনসন একদিন হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায়। এক তরুণ, বইয়ে যে কাহিনিটি বলে যাচ্ছে, জেনসনের সাথে তার দেখা হয় (‘আমার বয়স যখন উনিশ’)। জেনসনকে সে কাজের প্রস্তাব দেয়। জেনসন তখন একাকী জীবন কাটাচ্ছিল, বন্ধুবান্ধবদের এড়িয়ে চলত, টেলিফোন ধরত না, কেউ তার সাথে দেখা করতে এলেও লুকিয়ে থাকত। কোনো এক দুর্ঘটনার ফলস্বরূপ সে ওই জীবন যাপনে নিজেকে অভ্যস্ত করতে চেষ্টা করছিল কিন্তু পাঠক সেই দুর্ঘটনার ব্যাপারে কিছু জানতে পারে না। শুধু এটুকু জানা যায় যে জেনসন তোলা ছবির মধ্যে ধরে রাখা নির্জনতাকে ভালোবাসে আর মানুষের কথার শব্দে বিরক্তি বোধ করে। চিরকালের জন্য হারিয়ে যাবার ঠিক আগে, জেনসন তার টিকেটের জন্য কাগজপত্র তৈরি করছিল। জন্মের একটা প্রত্যয়নপত্র বের করতে গিয়ে আবিষ্কার করল যে আরেকজন ফ্র্যান্সিস জেনসন জন্মেছিল বেলজিয়ামেরই আরেক শহরে। রোমে একবার তাকে গ্রেফতার করা হয় আর ধরে রাখা হয় ফসোলি ক্যাম্পে, তারপর ১৯৪৪ সালের দিকে কোনো এক অজানা জায়গায় তার মৃত্যু হয়। ধারাবর্ণনাকারী চরিত্রটিকে জেনসন জানায়, ‘কোনো একটা সত্য গোপন করে রাখা হয়েছে, হয়তো কোনো ভয়ে, হয়তো কোনো আশঙ্কায়, আর আমরা সেই সত্যের ছায়া থেকে সরে গেছি অনেক দূরে।’
‘প্রতিটি মানুষ যাদের পায়ের নিচে মাটিও থাকে না, থাকে না কোনো শিকড়, তাদের মতোই,’ মোদিয়ানো বলেন, ‘আমিও আমার অতীত নিয়ে ব্যস্ত। আর আমার ইতিহাস হলো পেশার শুরুর দিককার ঝামেলা আর লজ্জাজনক অধ্যায়।’ মোদিয়ানোর জন্ম ১৯৪৫ সালে, তাই সেখানে ইতিহাস এসেছে অবশ্যম্ভাবী হিসেবে। ইতিহাসে বা অতীতের প্রতি তার দুর্বলতা আমরা লাকোম্বে কিংবা লুসিয়ান বইগুলো থেকে সহজেই আন্দাজ করতে পারি। কিন্তু বেশ দেরিতে লেখা একটি বইয়ের কথা বলব, ডোরা ব্রুডার, আমেরিকায় অনুদিত হয়েছিল। বইটিতে মোদিয়ানোর লেখার আসল স্বাদটি পাওয়া যায়। দ্য সার্চ ওয়ারেন্ট নামে ইংলিশ বইটি একটি হুলিয়া নিয়ে লেখা। কিন্তু সত্যি বলতে কী, বইটিতে আসলে কোনো হুলিয়া পাঠানো হয়নি কারো নামে। সেখানে পুলিশ রিপোর্ট, কাগজপত্র, আর হারিয়ে যাওয়া মানুষের সম্পর্কে অনেক তথ্য দেয়া হয়েছে। সেখানে ইহুদিদের নির্বাসনের ব্যাপারেও বলা হয়েছে অনেক কিছু।
উপন্যাসটি শুরু হয়েছিল মেদিয়ানোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বলে যা পরিচিত, সেভাবেই। নিজস্ব জীবনের খুব কাছাকাছি ঘেঁষে আরম্ভ করলেও পরপরই সেখান থেকে সরে আসে কাহিনি। ধারাবর্ণনাকারী আমাদের বলে যে ‘আট বছর আগে’ খবরটা ছেপেছিল। বছরটা ছিল ১৯৪১, আর লেখা ছিল একজন হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা যার নাম ডোরা ব্রুডার, বয়স পনেরো, অভিভাবকেরা থাকতেন ৪১ বুলেভার্ড অরনানোতে। ধারাবর্ণনাকারী দক্ষিণ বুলেভার্ডের রাস্তাঘাটের দৃশ্য মনে করছিল তার শৈশবের স্মৃতি থেকে, সেসব দিনের কথা সে মনে করে যখন মায়ের সাথে সেইন্ট-ওইন ফ্লি মার্কেটে যেত। আবার পরপরই সে জায়গাটিকে স্মরণ করতে থাকে ১৯৬৫ সাল থেকে, যখন তার  প্রেমিকা সেখানে থাকত। ৪৩ বুলেভার্ড অরনানোতে মেট্রোর দাঁড়ানোর জায়গার পাশে প্রেমিকার বাড়ির কথা ভাবছে সে তখন। নিজের কথা বাদ দিয়ে তখন সেই হারিয়ে যাওয়া মেয়েটির কথাই মুখ্য হয়ে ওঠে। আর কথায় কথায় নিজেকেও বিশ্লেষণ করা হয়, ‘মানুষের বাহিরাবরণের উপরে যে দাগ পড়ে তা মুছতে যা লাগে, তা হলো সময়।’ ‘আর যা লাগে, ধৈর্য।’ ‘তবে আমার কিন্তু অনেক ধৈর্য আছে। আমি বৃষ্টির মধ্যেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে পারি।’ এই কথাগুলো কিন্তু চির প্রতিজ্ঞার মতো শোনায় না, আর তাই আমরা জানি বাস্তবে কী হওয়ার কথা।
মানুষটি ডোরা ব্রুডারের পরিবারের ব্যাপারে খোঁজখবর করতেই থাকে, তার বাবা-মায়ের মধ্যে একজন অন্ট্রিয়ার আরেকজন হাঙ্গেরিয়ার ইহুদি যারা শ্রমিকের বাচ্চাদের ক্যাথলিক স্কুলে তাকে ভর্তি করিয়েছিল। স্কুলটির নাম ছিল দ্য হোলি হার্ট অফ মেরি; সেখানে সে ডোরার কিছু পরিচিত মানুষের সন্ধান পায়, পায় কিছু ছবি; সবকিছু দেখেশুনে সে বুঝতে পারে যে ডোরা ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে উধাও হয়ে যায়, আর আবার তাকে দেখতে পাওয়া যায় ১৯৪২ সালের এপ্রিল মাসে। তাহলে এর মাঝখানের সময়টাতে ডোরা ব্রুডার কোথায় ছিল আর কী করছিল, কাহিনি তখন চলতে থাকে দুটো ভিন্ন প্রশ্নকে আশ্রয় করে। ধারা বর্ণনাকারী তখন নিজের বাড়ি থেকে চলে আসার স্মৃতি মনে করতে থাকে, ডোরার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবার স্বাধীনতার মজাটা আন্দাজ করতে পারে। ‘ডোরার নিশ্চয়ই মনে হয়েছিল যে সময়ের কোনো একটা চোরা রাস্তা ধরে সে হাঁটতে হাঁটতে কোন অজানায় চলে যাচ্ছে, আর সামনে যখন অনেক দরজা বন্ধ হয়ে যায় তখন কেবল অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হয় ফাঁদ থেকে বেরোনোর জন্য।’ তবে সেসব ছিল কেবলই কল্পনা, সে জানত না সত্যি সত্যি ডোরা কী ভেবেছিল তখন। তার এবং ডোরার অবস্থানগত পার্থক্য ছিল। ডোরা ছিল এমন এক পলাতক যে কিনা কেবল ইহুদি খুঁজে ফেরা একটা সরকারের কাছেই ঘুরেফিরে চলে আসতে পারত। সেখানে কোনো অতিক্রম করার ঘটনা ছিল না, সেটা ছিল ফাঁদে পড়ার দুর্ঘটনা।
ধারাবর্ণনাকারী ডোরার সাথে যে নিজের জীবন মিলিয়ে দেবে, তা পারেনি, যদিও উপন্যাসের শুরুতে তেমনই মনে হয়েছিল। তবে শেষে আর তা হয় না। ডোরার বিষয়টা অস্পষ্টই থেকে যায়, তবে সে কারণটা মূল্যবান হয়ে ওঠে, অনন্ত এটুকু নিশ্চিত হওয়া যায় যে কোনো সৌভাগ্যের সন্ধানে ডোরা বেরিয়ে পড়েনি।
কখনই জানা হবে না ডোরা কেমন করে সে দিনগুলো কাটিয়েছিল, অথবা কী করে কাটিয়েছিল বসন্তের লাগাতার কয়েকটি সপ্তাহ যখন সে দ্বিতীয়বারের মতো উধাও হলো। সেসব রয়ে গেল তার একান্ত কথা হিসেবে।
ধারাবর্ণনাকারীর আরেকটি ব্যাপার ছিল, যা কিনা মোদিয়ানোর নিজস্ব কৌশল, যেটা পাঠকের মনে দাগ কাটার মতো। তিনি কিন্তু সরাসরি অন্য আরেকটি জীবনকে নিয়ে কল্পনা করেন না, যেমনটা ঔপন্যাসিকেরা বরাবর করে থাকেন, আর তিনি এটাও বলেন না যে সেই জীবনগুলো কল্পনার বাইরে। তিনি লেখেন এমন কিছু কথা যা বর্তমান নয়, যাকে বলা যেতে পারে অন্তর্দৃষ্টি কাজে লাগিয়ে লেখা, তিনি লেখেন ‘অতীত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে’। তার অতীতও টানা এগিয়ে আসে না আবার ভবিষ্যতও একাধারে বর্ণিত হয় না। কল্পকাহিনির বাঁকের মতো মিলেমিশে একসাথে চলতে থাকে সমান্তরালে।
তার লেখার রসায়নটি হতে পারে কল্পনাপ্রসূত কিংবা কেবলই রূপক, তবে সেখানে যে স্মৃতি আর ভবিষ্যতের দৃশ্যাবলী নিয়ে খেলা করা হয়, তা কিন্তু কেবল কল্পনা নয়। তা কেবলই তার অন্তর্দৃষ্টি।   

(ঈষৎ সংক্ষেপিত)      
*লেখক লন্ডন রিভিউয়ের এডিটোরিয়াল বোর্ডের মেম্বার, বিশিষ্ট ব্রিটিশ সমালোচক (‘ডোরা ব্র“দার’ উপন্যাসের সমালোচনা; লন্ডন রিভিউ অব বুকস, নভেম্বর ২০০০)


[এই ম্যাগাজিনের কোনো লেখা কোনো অনলাইন বা প্রিন্ট পত্রিকায় প্রকাশ করতে হলে অবশ্যই সম্পাদকের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন হবে [email protected]]