মুক্তিযুদ্ধ
যুদ্ধগাথা একাত্তর
এনায়েত কবীর
গুলির গন্তব্য থেকে
লুৎফুল হোসেন

প্রবন্ধ
চিত্রকর কমলকুমার মজুমদার
শেখ মিরাজুল ইসলাম

গল্প
মোজাফ্ফর হোসেন
সাদিয়া সুলতানা
আবু নাসের

নিবন্ধ
বিলেতে মিশুক মুনীরের সঙ্গে
শাকুর মজিদ

উপন্যাস
রূপে তোমায় ভোলাবো না
সৈয়দ আনওয়ারুল হাফিজ

গদ্য
বিজ্ঞাপনের ভাষা
নাজিব তারেক

বিশ্বসাহিত্য
মার্কেজ ও ক্যাস্ট্রো
লিওনার্ড কোহেন
আকিল জামান ইনু

বিশেষ রচনা
হোমারের জন্য প্রশস্তিগাথা
অনুবাদ: মাসরুর আরেফিন

সমকালীন ইতালিয়ান ফিকশন
সোহরাব সুমন

শ্রদ্ধাঞ্জলি
 সৈয়দ শামসুল হক

জীবনকথা
প্রজন্ম নক্ষত্র
রুখসানা কাজল

ভ্রমণ
হোটেল ডে আর্টস
মঈনুস সুলতান

টরন্টোর চিঠি
শামীম আহমেদ

অস্ট্রেলিয়ার চিঠি
ফজল হাসান

এবং
গুচ্ছ কবিতা
নাহার মনিকা

৯ বর্ষ ৭ সংখ্যা
ফেব্রুয়ারি ২০১৭

লেখক-সংবাদ : প্রতি রাতে তাঁর সঙ্গী কবিতা, আর দিনমান দুনিয়ার তাবৎ কবির ঠিকুজি সন্ধানে রত ওমর শামস * মন সরানোর জো নেই হাবীবুল্লাহ সিরাজীর নয়া কিতাব ‘জো’ থেকে * একজন কমলালেবু নিয়ে বইমেলায় আসছেন শাহাদুজ্জামান; তাঁর অপর গ্রন্থ ‘ইলিয়াসের সুন্দরবন ও অন্যান্য’ * ফরিদ কবিরের ‘জীবনের গল্প’ লেখ্যরূপে বারবার বদলে চলেছে * রাশিয়ার ইতিহাস খুঁড়ে মশিউল আলম এঁকে চলেছেন ‘লাল আকাশ’, কমপক্ষে ৫০০ পৃষ্ঠার উপন্যাস হবে এটি * দারুণ সব অর্জন এলেও বছরভর শ্র“তিযন্ত্র যন্ত্রণা করেছে শাহীন আখতারের, এরই মাঝে ঘটে চলেছে ‘স্মৃতির ছায়াপাত’* নির্বাচিত গল্প সংকলনের কাজ গোছানো শেষ রাশিদা সুলতানার * ফারহানা মান্নানের ভিন্নধর্মী বই ‘একুশ শতক ও অন্য শিক্ষার সন্ধানে’ বইটি প্রকাশ করছে আদর্শ * হাসানআল আব্দুল্লাহর কবিতার জন্য হোমার ইয়োরোপিয়ান মেডেল প্রাপ্তি এবং চীন সফরÑ দুটোই দারুণ খবর * ফয়জুল ইসলাম নতুন গল্পের মুখ দেখছেন ‘আয়না’-য় * জোড়া কাব্য নিয়ে মেলায় ঢুকবেন ইমতিয়াজ মাহমুদ *





শহর ভ্রমণ শেষে
নাহার মনিকা


১.
একান্তে ভুমিষ্ঠ করি নিজের সন্তান
খোলা রেলগাড়ি চেয়ে চেয়ে দেখে...
এই দৃশ্যে জটিলতা তখনো আসেনি।
ব্লেডের আবিস্কার নিয়ে কথাবার্তা ভ্রুণ হয়ে আছে।
অথচ ভুমিষ্ঠ হবার দিনক্ষণ নির্দিষ্টই থাকে।
আমি আর শিশুটিও বাঁধা পড়ে থাকি
আমি যদি উঠে বসি, শিশুটিও তাই
আমাদের মাঝখানে অনির্বাণ সুতো
কাঁচি সূঁচ সার্জারির পরোয়া করে না।

২.
রাজকুমারীর চোখ থেকে টুক করে পড়ে যাই,
নিজস্ব ছায়ার সঙ্গে শহরের কোলাহলে ঢুকে পড়ি
আমার শরীর ভর্তি অচেনা চোখের লোনাপানি,
আমিও যুদ্ধফেরা, ক্লান্তিতে নুয়ে নুয়ে হাঁটি।
অথচ সবাই কী নির্বিকার ভীড়ের সুড়ঙ্গমুখে  
বিবাহের দৃশ্য দেখে করতালি দিয়েই চলেছে।
শ্বেত সন্তাপে ধরা নবোঢ়ার গাউনের উচ্ছ্বসিত কোনা
কাছ ঘেষে বসে থাকা গুটিকয় গা খোলা মেয়ে
রং দিয়ে একজন অপরের আত্মা ঢেকে দেয়।
তাপ আর তরবারি হয়ে স্থির থাকে তারা
স্থির স্থির মানে, স্থিতবৎ হিমালয় চূড়া।
সুড়ঙ্গের রং ভেদে দৃশ্যপট আমূল বদলায়।

৩.
এখনো গগনবাহী ঝড় জল বিপনন
তবু তৃষ্ণা পায়
তৃষ্ণায় নড়ে ওঠে শহরের ভীড়ের নিঃশ্বাস।
প্রবল টান দিয়ে নিয়ে যায় আমাকে ও তাকে
ঘুরে ফিরে সঙ্গের আপেলখানি ভাগ করে খাই।
তারপর কী যে ঘুম পায়!
ঘুমের মাদকে শুয়ে থাকি
দিবাগত পার্ক মেলে দেয় নিজস্ব বুক,
ওপরে পাখিরা ওড়ে নিজের পাখায়,
ঈর্ষার জামা খুলে ওড়ে। শূন্যে উড়ে যায়।  
ঈগল পাখির খর চোখ তবুও কেমন নেমে আসে
সিঁটিয়ে থাকার মত, উড়ে পালাবার মত পাখসাঁট খুঁজি,
অথচ এই এক আজানুলম্বিত পার্ক,
মেকী ফোয়ারার ছড়াছড়ি
আমরাও ফেইক কথা বলি, মেকী হাতে
পানিতে আজলা ভরে খুঁজে যাই পরিচিত মুখ।
মুখগুলি আমার গ্রামের
ওরাও আমার গ্রাম, গোপন দুয়ার খুলে আসে
পরিচিত পুরুষের মুখ।
গ্রাম শহরের হাওয়া পরস্পরে আত্মীয়তা করে
অচেনা পুরুষে গিয়ে নিজের পুরুষ খুঁজে আনে।

৪.
জননের মুখ দিয়ে জঠরের কথা শুনি চলো।
কেমন লুকিয়ে থাকি, ইট চেপে থাকা শুয়োপোকা
ওড়ার স্বপ্ন থাবা দিয়ে মৃতবৎ রেখে দিই,
তাকানো দূরের কথা ছুঁয়েও দেখি না,
শাদা বরফের বুকে রক্তপাতের মত জ্বলজ্বলে ভয় জুড়ে থাকে।
জানি, ইতোমধ্যে আছি, মধ্যভাগে আছি তবু
অস্তিত্ব আমার অস্বীকৃত বলবৎ থাকে।
কেবল ভুলের মধ্যে জেগে থাকতে বলে সদ্যোৎত্থিত চরের মতন।
কচি ঘাস, বালুময় লাজুক নরম মাটি
কিংবা ফুলে ওঠা তাজা গরম রুটির মতন
আমাকেও নাম দাও তুমি, লুকিয়ে লুকিয়ে।
উচ্চারণের কাছে বন্দী আহত নাম।

৫.
একদিন বন্দী আহত নামে ফুল ফুটে ওঠে।
কাঠের টেবিলে শুধু ভ্রুণ নয়-
পড়ে থাকে রোদ, জাগতিক ডানা মেলে উড়ে আসা
মাস্ক মুখে নার্স কী যে এক অবাধ সৈনিক -
হাজার হাজার তার লোনা জলবোমা
নির্বিঘেœ নিভিয়েছে পরিণত লবনের ধক,
আবার লবন! আহ লবনে দ্রবণ!
গলে গলে লবনাক্ত জ্বলে যাওয়া নিতান্ত সকাল
সহমরণের শ্বাসে সঙ্গী হয় কাঠের টেবিল,
ঋতুভারাতুর হয়ে সেও দেখি ফিরে যায়
কাষ্ঠগন্ধী আলাপ বিলাপে,
বিকশিত সমুদ্র বানাবে বলে এ লবন আমাকে ভাসায়!

নিজের চিবুক ঘেষে সকৌতুকে ভাসি,
দুধসর ঘ্রাণে কিনারা তোবড়ানো এক পথের সন্ধানে
পথ ধরি, ধরতে ধরতে ভেসে যাই,
যৌথ স্নান সেরে নিই আমি আর আমার এই নোনতা চিবুক।
দুধগন্ধ কাঠের টেবিলে ভোকাট্টা, এককাট্টা হয়ে
বড় সড় দমবন্ধ ডুব দীর্ঘ হলে
সাহসে সামনে যাই।
অন্ধ,বন্ধ গলি। ঘুম শেষে জেগে ওঠা নেই।
ঘুমাই আবার,
অপেক্ষার চেয়ে বড় বিশ্রাম এসে গেছে,
বাসা বেঁধে রেখে গেলো আমার শরীরে।


৬.
তুমুল পায়ের পাতা জাপ্টে ধরো,
আমার তো বসবাস নেই, উড়ে আছি।
বেগুনী জারক রসে ডুবে গেঁথে স্থিতকায়
আছি বাতাসের গায়ে।
কি সব ভীষণ শব্দ সুখপাঠ হয়ে ফিরে ফিরে আসে
উত্তুঙ্গ মানবসভায়।
এখানে শহরময় শব্দের ভ্রুণ কত বড় গাছ হলো,
বেনীআসহকলা খুলে খুলে তারা ছড়ায় দশদিক।
রং এর সঙ্গে কিছু আত্মীয়তা ছিল, তাই
এ শহর আমাকেও রাখতে চায় বুঝি, স্বেদবিন্দুর মত,
ফুৎকারে উড়ে যেতে দিয়ে।
আমার তো বসবাস নেই, উড়ে আছি, স্থিতকায়
শব্দের বেগুনী জারক রসে ডুব দিয়ে।